1. editor@dainiknatuncomilla.com : napbulbul :
  2. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংবিধানের মূল ভিত্তি অক্ষুণ্ন রেখে সংশোধন করা যেতে পারে: ফজলুর রহমান সাভার-আশুলিয়ায় দুই শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা ছিনতাইয়ের ভিডিও ভাইরালের পর কুমিল্লায় গ্রেফতার ৪ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচংয়ে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু সাজেদা ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান এক নারী গ্রাহককে পুলিশে দিলেন এনজিও কর্মকর্তা দেবিদ্বারে ট্রাকচাপায় মায়ের সামনে মে‌য়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ইউপি নির্বাচনে মেম্বার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলার মামলা: বগাসহ ৪ জন এক দিনের রিমান্ডে কুমিল্লায় দুই দিনব্যাপী শচীন মেলা সমাপ্ত ‘শচীন দেববর্মণ মিউজিককলেজ’ প্রতিষ্ঠার দাবি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও সাবেক নায়েবে আমির সদস্যপদ (রুকনিয়াত) বাতিল করেছে জামায়াতে ইসলামী

কুমিল্লা ১ ও ২ আসনে নতুন সীমানা

মমিনুর রহমান বুলবুল
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৩৪২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা উত্তরের চারটি উপজেলা দাউদকান্দি, তিতাস, মেঘনা ও হোমনা। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই চারটি উপজেলাকে নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ২৪৯ ও ২৫০ তম আসন। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত সীমানায় কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) আসনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন ভাবে ভাবাচ্ছে ভোটারদের। প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলছেন- ভোটে এর কোন প্রভাব পরবে না। কিন্তু নতুন সীমানায় নতুন ভোটার, তাই আগে থেকেই মাঠে রয়েছে প্রার্থীরা। ভৌগলিকভাবে পরিবর্তিত উপজেলাগুলো চালাচ্ছেন বেশি বেশি প্রচারণা ও গণ সংযোগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রথম বার সীমানা নির্ধারণ থেকে এবারের পরিবর্তন পর্যন্ত যারা নতুন ভোটার হয়েছেন তাদের এই পরিবর্তনটি বেশি ভাবিয়ে তুলবে। নতুন নতুন প্রার্থী এলে নতুন ভোটারদের পছন্দই জয় পরাজয় নির্ধারণ করে দিবেন। কারণ তারা সীমানা নির্ধারণের আগের রাজনৈতিক পরিবেশের সাথে তারা পরিচিত নয়- প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তারা দ্বিধায় ভুগবেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) সংশোধিত আসনে ভোটার ৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৩০ জন ও নারী ভোটার- ২ লাখ ২৪ হাজার ৭১২ জন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) আসনে ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ- ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৭ জন ও নারী- ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬২ জন; কুমিল্লায় সবচেয়ে কম ভোটারের আসন এটি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে পুরুষ ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৬ জন ও নারী ১ লাখ ৭১ হাজার ৫১৩ জনসহ মোট ভোটার ছিলো ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯ জন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের ১টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৪ জন।
নবম থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাউদকান্দি-মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-০১ এবং হোমনা-তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-০২ আসন নির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি আবার আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এই দুই টি আসনের সীমানা প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের মত ফিরিয়ে নিয়েছে।
তথ্য সূত্র বলছে, ১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-০১ আসনে টানা নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সে সময় দাউদকান্দিও সাথে তিতাস উপজেলা মিলে কুমিল্লা-০১ আসন ছিলো। পরে ২০০৮ এর নির্বাচন থেকে দাউদকান্দি মেঘনা নিয়ে আসনটি পরিবর্তন করায় সে আসন থেকে টানা নির্বাচিত হয়ে আসছেন আওয়ামীলীগের মেজর জেনারেল (অব) সুবিদ আলী ভুইয়া। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা আবারো পুণরায় দাউদকান্দি- তিতাস নিয়ে গঠন করায় ফলে কোন পরিবর্তন আসে কি না তা এখন নির্বাচনি ভোট গ্রহন ও ফল প্রকাশের বিষয়।
অন্যদিক, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কুমিল্লা-০২ আসনটিও ছিলো বিএনপি বারবার জয়ী আসন। বিএনপি নেতা এমকে আনোয়ার এই আসন থেকে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বারবার জয়ী হন। অর্থাৎ সীমানা পরিবর্তনের আগে ও পরে এই আসনটিতে জয় পায়- বিএনপি। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি পায় মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিরও নেতা আমির হোসেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে যায়, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সেলিমা আহমাদ মেরি। আসনটিতে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামীলীগ সব ক’টি রাজনৈতিক দলের ভোটার প্রাধান্য আছে বলে দাবি নেতাদের। তবে ভোটাররা মনে করেন, সীমানায় ভোটের ফলে কোন পরিবর্তন আসে কি না তা নির্ভর করবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মার্কা নিয়ে কারা নির্বাচন করছেন- তাদের উপর।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পর নতুন ভৌগলিক পরিবর্তনের কারণে দুইটি আসনে সংযুক্ত চার উপজেলার ভোটাররাও এখন নতুন নির্বাচনের আমেজে। নতুন আসন বিন্যাস করায় সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় যেমন নতুনদের নাম আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি ভোটাররাও ভাবছেন- কে হতে যাচ্ছে তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দলের প্রার্থী।
হোমনা উপজেলার বাসিন্দা ও ভোটার সজল চন্দ্র শীল বলেন, কুমিল্লা-২ আসনে আগের প্রার্থীরা তো আছেই। এখন যে কোন রাজনৈতিক দলের তিতাস থেকেও তো কেউ প্রার্থী হতে পারেন। হোমনার প্রার্থীর জন্য তিতাসে নতুন ভোটার আর তিতাসের প্রার্থীর জন্য হোমনায় নতুন ভোটার। এজন্য প্রার্থীদের এখন ভোটারদেও সাথে বেশি মিশতে হবে। কে কি উন্নয়ন করেছে বা করবে এসব বেশি বেশি তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করতে হবে।
দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকার বাসিন্দা ও ভোটার আলমগীর হোসেন জানান, সীমানা পুরোনোটাই নতুন করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গোছানো একটি সাংগঠনিক ছক যেহেতু পরিবর্তিত হচ্ছে- তাই নতুন ভাবে ভাবতে হবে প্রার্থীদেরও। গত ১২ বছরের নতুন ভোটাররাই ফ্যাক্টও হবেন এই দুই আসনে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, নতুন সীমানায় নির্বাচন করতে গিয়ে প্রার্থীদের আগের তুলনায় বেশি সময় দিতে হবে ভোটারদের। তবে পছন্দের রাজনৈতিক দলকে বিজয়ী করতে প্রার্থীর চেয়ে বেশি সাংগঠনিক দক্ষতা ও মার্কাই প্রাধান্য পাবে বলে তারা মনে করেন।
কুমিল্লা-০১ ও কুমিল্লা-০২ আসনের বিএনপির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন। তার অসুস্থতার কারণে এলাকায় রাজনীতি দেখাশুনা করছেন তার ছেলে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান বিন্যাস্ত আসনে কুমিল্লা-১ এ বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং কুমিল্লা-২ এ এমকে আনোয়ার নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। এই এলাকার উন্নয়ণও তারাই শুরু করেছেন। সুতরাং এই দুইটি আসন বিএনপির ঘাটি। নির্বাচন হলে এখানে বিএনপিই জয়ী হবে।
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেঘনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ মিয়া রতন শিকদার জানান, দুই আসনের নির্বাচনের জন্যই মেঘনা উপজেলার ভোট ফ্যাক্টর ছিলো। মেঘনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজের হাতে গড়ে দেয়া উপজেলা। তাই এই উপজেলা যখন দাউকান্দির সাথে ছিলো তখনও আওয়ামীলীগ জয়ী হয়েছে। আবার হোমানার সাথে এখন সংযুক্ত হয়েছে তাতেও আওয়ামীলীগ জয়ী হবে। এটা নিয়ে কোন দ্বিধা নাই।
আসন পুণঃবিন্যাসের পর থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে নতুন এলাকায় কাজ করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা। গণসংযোগ-মিছিল মিটিং চালিয়ে গেলেও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলছেন, সীমানা সংশোধন প্রভাব পরবে না নির্বাচনে। গত মেয়াদের উন্নয়নের হিসাব নিকাশ দেখেই ভোট দেবেন ভোটাররা।
কুমিল্লা-০১ আসনের মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুইয়া জানান, আসন পুনঃবিন্যাস ভৌগলিকভাবে পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে কোন পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি না। বরং পরিবর্তনের কারনে এখন একটি ভৌগলিক ভারসাম্য এসেছে।
কুমিল্লা-০২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরি নতুন আসন বিন্যাস হলে একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। কিন্তু হোমনা মেঘনার বিন্যাসটা ইতিবাচকভাবেই আমরা নিয়েছি। কারণ হোমনা মেঘনা একসময় একসাথেই ছিলো। ভোট নিয়ে কোন চিন্তা নাই, চিন্তা হলো – দলীয় নেতাকর্মীরা যদি এক থাকি আমরা এই আসনটি ধরে রাখতে পারবো।
কুমিল্লা-০১ (দাউদকান্দি-তিতাস) আসন থেকে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রিয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর জানান, গত কয়েক বছর এই আসনটিতে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে তৎপর ছিলো না, তাই তারা এখানে সুবিধা করতে পারবে না। আমরা দাউদকান্দির পাশাপাশি তিতাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রেখেছি- এখানের মানুষ আওয়ামীলীগের প্রার্থীকেই ভোট দিবে।
কুমিল্লা-০২ (হোমনা-মেঘনা) আসন থেকে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ বলেন, মেঘনা আমাদের সাথেই ছিলো। ভোটে এর প্রভাব আসবে না।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD