
নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।
তিনি পূজামণ্ডপে সতর্ক নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপের বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সতর্কতা জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিয়াউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পংকজ বড়ুয়াসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যরা।
কুমিল্লায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার:
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, মণ্ডপ কমিটির সদস্য ও ভক্তদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পূজা উদযাপন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান
এ ছাড়া নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশপথের ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত পুলিশি টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন পুলিশ সুপার।
তিনি আশ্বস্ত করেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতাও কামনা করেন