
মমিনুর রহমান বুলবুল কুমিল্লা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৬ জন ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অধিদপ্তরে কর্মরত পাঁচ সিপাহি ও একজন গাড়ি চালককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। একই চিঠিতে অন্য জেলা থেকে ২ জনকে কুমিল্লা অফিসে পদায়ন করা হয়। গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের উপ পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) রাজিব মিনা স্বাক্ষরিত জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠির বিষয়টি বুধবার রাতে একটি মাধ্যমে আসে। এতে বলা হয়েছে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
চিঠি অনুসারে বদলিকৃত সিপাহিদের মধ্যে নাঈমুল ইসলামকে কুমিল্লা জেলা কার্যালয় থেকে সুনামগঞ্জজেলা কার্যালয়ে, সাইফুল ইসলামকে পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ে, শফিকুল ইসলাম শান্তকে খাগড়াছড়ি জেলা কার্যালয়ে, মো.মোবারক হোসেনকে মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ে আহসান হাবিবকে ভোলা ও গাড়ি চালক খন্দকার মেজবাহ উদ্দিনকে হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে বদলী করা হয়। একই চিঠিতে মো. মঞ্জুরুল ইসলামকে সুনামগঞ্জজেলা কার্যালয় থেকে কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে মো.আল হেলাল হোসেনকে খাগড়াছড়ি জেলা কার্যালয় থেকে কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
অফিস আদেশের ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বদলিকৃত সিপাহিরা তাদের নামের পাশে উল্লিখিত স্থানে ও পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে গত ২৬ আগস্ট দৈনিক কুমিল্লার কাগজের মাল্টিমিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত গঠন করা হয়। ওই তদন্ত টিম কুমিল্লা কার্যালয়ে সরেজমিনে তদন্ত এসে প্রকাশিত সংবাদের প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পেয়ে কুমিল্লা অফিসের ৫ জনকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়। একই চিঠিতে অন্য জেলা থেকে দুইজন সিপাহিকে কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিপাহী বলেন, প্রকাশিত সচিত্র প্রতিবেদনে মাদক সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত আরও একাধিক কর্মকতা জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো মাদককাণ্ডে জড়িত নয়, কিন্তু গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার অপরাধে এমন সিপাহিদের শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে দপ্তরটির কুমিল্লার উপপরিচালক মো.বজলুর রহমানের সরকারি ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভি করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন রেসপনস করেননি। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, কুমিল্লা কার্যালয়ের একজন চালক ও একজন সিপাহী লোকাল মানুষদের সঙ্গে যোগসাজেস করে অফিসে একটি ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। প্রধান কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত টীম বিষয়টি তদন্ত করেছেন। বদলির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলির বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ের বিষয়, এখানে আমাদের চট্টগ্রাম বিভাগের কোন বিষয় নয়। এ বিষয়ে আপনি কুমিল্লার উপপরিচালক মো.বজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।