
শামিমা নাছরিন রিমা:
সৌদি আরব থেকে দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরছেন সাকিবের বাবা মো.শহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে বাড়িতে আনতে যান বড় ছেলে সাকিব। সাথে তার মামা এনামুল ও খালু মামুন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বুধবার ভোরে ডেমরা স্টাফকোয়ার্টার্স এলাকায় একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সাকিব ও তার প্রবাস ফেরত বাবাসহ পাঁচজন আহত হয়।
স্থানীয়রা আহতের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এর মধ্যে সাকিবকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ধান্ডমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিব মারা যায়। নিহত সাইফুল ইসলাম সাকিবের বাড়ি কুমিল্লার জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের গৌরসার গ্রামে।
এ ঘটনায় অন্য আহতরা হলো, সাকিবের সৌদি ফেরত বাবা মো.শহিদুল ইসলাম (৪৫), তার মামা মো. ইমরান হোসেন (৩০), খালু মো. মামুন (২৭) ও মাইক্রোবাস চালক আল আমিন (৩০)। এর মধ্যে চালক আল আমিন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।
সাকিবের বাড়ি গিয়ে জানা গেছে, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সাকিব বড়। চলতি বছর এলাহাবাদ মহা বিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করে। সাকিবের চাচী পারুল বেগম বলেন, আমার ভাসুর দীর্ঘদিন পর সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে তাকে বাড়ি আনার জন্য সাকিবসহ অন্য তিন স্বজন একটি মাইক্রোবাস নিয়ে এয়ারপোর্টে যান এবং ফেরার পথে স্টাফ কোয়ার্টার্স এলাকায় একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়ে বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুব্রত কুমার পোদ্দার বলেন, ‘প্রবাসীকে বহনকারী মাইক্রোবাসের চালক গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাস ও মাইক্রোবাস আমরা জব্দ করেছি। নিহতের পরিবার থেকে কেউ থানায় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো. নয়ন মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার খবর জেনেছি। যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে থানায় মামলা হবে। সংশ্লিষ্ট থানা আমাদের কাছে কোনো সহযোগীতা চাইলে আমরা তা দেব।
তারিখ ০৬-১২-২৩