
মমিনুর রহমান (ন্যাপ বুলবুল)
শিক্ষক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক
বর্ষিয়ান আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল আজিজ খাঁন জীবন দর্শন আওলোচনা করলে দেখা যায় যে, বৃহত্তর কুমিল্লার আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সর্বাধিক সর্বমহলের গ্রহনযোগ্য সর্বাধিক পরিচিত একজন স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল আজিজ খাঁন, তার বাড়ী বর্তমান কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলায় বাবনিসাইর গ্রামে, তার বাবার নাম মো: আবদুল গনি, গনি মোক্তার নামে বেশ পরিচিতি ছিল , মাতার নাম সোনাবান বিবি, দাদার বাড়ী বাননিসাইর হলেও বাবার কর্মস্থল কুমিল্লায় হওয়ার কারনে তিনি কুমিল্লা শহরে মোগলটুলিতে বসবাস করতেন, তাঁর বাবা আইন পেশায় যথেষ্ট সুনাম খ্যাতি অর্জন করেছেন । তিনি বঙ্গ বিদ্যালয় বর্তমানে কুমিল্লা হাই স্কুলের ছাত্র থাকাকালিন সময়ে বৃটিশ বিরুধী আন্দোলন শুরু হয়, মাত্র ১২ বছর বয়সে বৃটিশ বিরুধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ।
আবদুল আজিজ খাঁনের রাজনীতি শুরু হয়েছিল কমিউনিষ্ট পাটি মধ্য দিয়ে হলেও পরবর্তীতে আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িয়ে যার, তাঁর আপন ভাই কমিউনিষ্ট পাটির নেতা ছিলেন সেই জন্যই তিনি কমিউনিষ্ট ছিলেন । আমার যতটুকু মনে আছে, তাঁর ছেলে ছোটন একদিন বলেছিল আমার বাবাও তোমার নেতা সাথে কমিউনিষ্ট করতেন ,তারপর আমি খোজ নিয়ে জানতে পারলাম আসলেও তিনি কমিউনিষ্ঠ করতেন, তার বড় ভাই আ: লতিফ খাঁন কমিউনিটি পাটির সক্রিয় নেতা ছিলেন, সেই জন্য কমিউনিটি রাজনীতিতে অনুপ্রানিত হন
ধর্মীয় কুসংসার রোষানলে কুৎসা রটানোতে ব্যস্ত ছিল তৎকালিন মুসলিমলীগ সহ ইসলামিক দলগুলো, কমিউনিষ্ঠ পাটি করলে ধর্ম থাকবে না, মসজিদ থাকবে না, কমিউনিষ্ট ধর্ম মানে না, ওরা নাস্তিক, সেই সময়ে জেল জুলুম, মামলা, হামলা, অবিচার অত্যাচার মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল, কমিউনিষ্ঠ রাজনীতিতে জীবন নিরাপত্তা ছিল না, এই জন্য তাকে বহুবার কারাবরন করতে হয়েছিল । এর পর তিনি দল ত্যাগ করে আরএসপি যোগদান করেন এর পর তাকে আর কারাবরন করতে হয়নি ।
কুমিল্লা শহরে একজন সফল ব্যবসাযী হিসাবে প্রতিষ্ঠতি হয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পক হয়েছিল, এই সম্পকের মুল লোকটি ছিল চৌদ্দগ্রামের চিওরা কাজী বাড়ীর কাজী জহিরুল কাউয়ুম (বাচ্চু মিয়া ) । আর এই জহিরুল কাউয়ুম ছিল বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ / একান্ত বন্ধু ও অর্থদাতা বড়লোক বন্ধু, রাজনীতি কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কাজী জহিরুল কাউয়ুম সদায় সর্বদা বঙ্গবন্ধু পাশ্বে থাকতেন এবং শেখ মজিবুর রহমানের সুখ দু:খের সাথী ছিলেন, আবদুল আজিজ খাঁনের শেখ মজিবুর রহমানের পরিবারে ঘনিষ্টতা হয় কাজী জহিরুল কাউযুমের মাধ্যমে, কাজী সাহেবের সাথে বঙ্গুবন্ধু ওখানে আসা যাওয়া করতেন, কাজী জহিরুল কাউযুমের টাকা পয়সা নিয়ে আবদুল আজিজ খাঁনই বঙ্গুবন্ধু বাসায় আসা যাওয়া করতেন । একবার কাজী জহিরুল কাউয়ুম টাকা পাঠাতে বিলন্ম হওয়া আবদুল আজিজ খাঁন বঙ্গবন্ধু বাসায় গিয়ে দেখেন বঙ্গুবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলতের নেছা বাসার ফ্রিজ বিক্রী করতে নিচ্ছেন, এমন সময়ে আবদুল আজিজ খান হাজির হয়ে বললেন ভাবী ফ্রিজ বিক্রী করতে হবে না, বাচ্চু ভাই ( কাজী জহিরুল কাউয়ূমের ডাক নাম বাচ্চু মিয়া) আপনাদের জন্য ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার ) টাকা পাঠিয়েছেন, এই ঘটনার সাথে অধ্যক্ষ আবদুর রৌফ জড়িত ।
সেই সময়ে আওয়ামী লীগে কাজী জহিরুল কাউয়ূম ( বাচ্চু মিয়া) অধ্যক্ষ কালাম মজুমদার, এডভোকেট আহামুদুল্লাহ, আজিজ খাঁন ও পরবর্তিতে আফজল খানও ছিল ্, এখন ওদের খবর কেউ রাখে না, ওদের নামও কেউ উচ্চারন করে না।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়, তাঁর বাবা গনি মোক্তার ভাষা আন্দোলনে জড়িত থাকায় তৎকালিন পুলিশ কাপ্তান বাজার বাসা থেকে তার বাবাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় । আবদুল আজিজ খাঁন তখন কংগ্রেস পাটির ভলন্টোরী কর্মী হিসাবে যোগদান করে কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরন করেন, পরে ১৯৪০ সালে আরএসপি রাজনীতিতে যোগদান করে , আরএসপি পাটি থেকে কমিউনিষ্ট পাটিতে যোগদান করে তখন তার নেতা এয়াকুব আলী বড় মিয়া কমিউনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে রাজনীতি করতেন । সেই সময়ে এয়াকুব আলী বড়মিয়া ও আবদুল আজিজ খান সহ ১৪ জন কমিউনিষ্ট আড়াই বছর কারা বরন করেন । আবদুল আজিজ খাঁন ও আবদুল লতিফ খাঁন আপন দুই ভাই কমিউনিষ্ঠ পাটির প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। আবদুল আজিজ খাঁন কমিউনিষ্ঠ পাটি ছেড়ে আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে যোগদান করলে এডভোকেট আহম্মদ আলী অধ্যাপক খোরশেদ আলম, আবদুর রৌফ, আফজল খাঁন সহ বৃহত্তর কুমিল্লার আওয়ামী রাজনীতি চাঙ্গা হয় । সেই সময়ে বর্তমান চাঁদপুর ও ব্রাম্মন বাড়িয়া সহ কুমিল্লা জেলায় আওতায় ছিল ।
১৯৫৪ সাল যুক্তফন্ড নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধু চৌদ্দগ্রাম চৌয়ারা কাজী জহিরুল কাউয়ুর বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে আসলে দেবিদ্বার ও মুরাদনগরের দায়িত্ব আবদুল আজিজ খানকে দেয়া হয় । নি:সন্দেহ বলা যায় যে আবদুল আজিজ খাঁন একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন, তৎকআলন সময়ে দেবিদ্বারে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন মফিজ উদ্দিন আহমেদ সাহেব, তাকে পরাজিত করার জন্য নিজে প্রার্থী না হয়ে কেন্দ্রে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ এর নাম পাঠিয়েছেন, এমন ত্যাগ বর্তমান আওয়ামীলীগের নেই বললেও চলে । তখন সবচেয়ে শিক্ষিত রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ ছিলেন, বয়সে তরুন, সুদর্শন, মোজাফ্ফরও কমিউনিষ্ট রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন । অবশেষে যুক্তফন্ট নির্বাচনে মন্ত্রি মফিজ উদ্দিন পরাজিত করে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ বিপুল ভোটে
সর্ব প্রথম এমপি নির্বাচিত হন ।
১৯৭০ সালে নির্বাচনে আবদুল আজিজ খাঁন দেবিদ্বার মুরাদনগর এলাকা থেকে প্রাদেশিক পরিষদেও সদস্য নির্বাচিত হন । ৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ত্রিপুরা মেলাঘর ক্যাম্প এ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংঘঠক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন । স্বাধীনতা উত্তরকালে আবদুল আজিজ খাঁন কুমিল্লার প্রথম এডমিনিষ্টেটর ছিলেন , ১৯৮০-৮২ সালে বৃহত্তর কুমিল্লার চাঁদপুর ও ব্রাম্মনবাড়িয়ার আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন । সেই সময়ে তাঁর সাধারন সম্পাদক ছিলেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার । সেই সময়ে কুমিল্লার আওয়ামী লীগের রাজনীতি নতুন মাত্রা যুক্ত হয় ।
একজন স্বচ্ছ ,সৎ ও সাহসী সাহসী রাজনীতিবিদ ছিলেন আবদুল আজিজ খাঁন, এতে কোন সন্দোহ নেই, কুমিল্লায় পরিবহন ব্যবসায়ী হিসাবে তার যথেষ্ট সুনাম খ্যতি অর্জন করেছিলেন ,র্দীঘ্যদিন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থ্র সহ-সভাপতি ও কুমিল্লার মটর এসোসিয়েনের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব নিষ্টার সাথে পালন করেন ।
আবদুল আজিজ খাঁন বিবাহ একটি ঘটনাচক্র হয়েছিল বলে জানা যায়, ব্যবসাহী কিংবা রাজনেতিক অঙ্গনে তার সমসায়িক সবাই বিবাহ করলেও বিবাহে করার তেমন কোন আগ্রহ ছিলনা বলে জানা যায়, তৎসময়ে এই নিয়ে সবাই উপহাস করতেন, কেন বিবাহ করেন না, এক সময়ে রাজনৈতিক কারনে নেতা কর্মী নিয়ে কিশোরগঞ্জে গিয়েছিলেন, সেখানে তাঁর সহধর্মনীকে দেখিয়ে ওকে যদি বিবাহ করাতে পার তাহলে আমি বিয়ে করবো, সঙ্গে থাকা সকল রাজনীতিবিদরা এই কন্যার মা বাবার সাথে যোগাযোগ করে বিয়ে কাজটা সুসম্পান্ন করেন । তাঁর বিয়েটা ঘটনাচক্রে হয়েছিল, দাম্পত্য জীবনে তিনি অনেক সুখী মানুষ চিলেন । কেননা তাঁর স্ত্রী একজন পর্দানশীল মহিলা ছিলেন, রাজনীতির কারনে অনেক নেতাকর্মী তার বাসায় আসা যাওয়া থাকলেও আজিজ খাঁনের স্ত্রীকে কেউ দেখছে বলে বলতে পারবে না । তিনি ৪ মেয়ে ২ ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন । তার ছেলে কবির ইকবাল খাঁন ছোটন কুমিল্লা জেলা উ: স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবাহক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতেছেন ।
আবদুল আজিজ খাঁনের সাথে পরিচয় বা চিনতাম আনুমানিক ১৯৭৭/৭৮ সালে দিকে, তখন আমি গঙ্গামন্ডাল রাজ ইনষ্টিটিউশানে (জাফরগঞ্জ হাই স্কুল) অধ্যায়ন কালে তার মালিকানাধীন খাঁন পরিবহন ও পুর্বাঞ্চল পরিবহন গাড়ী দিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতাম, একদিন দেখলাম জাফরগঞ্জ বাসষ্টেট একটি দোকানে অনেক লোকের সমাগম, সাথে তার দুটো মেয়ে নিয়ে বসে আছে বড় পেটওয়ালা মাথায় নেই চুল, তার নাম আবদুল আজিজ খাঁন, সবাই তাকে নেতা বলে সমীহ ও সন্মান করতেছে । সেই দিন থেকে আজিজ খাঁনকে চিনতাম । এরপর ১৯৭৯ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছিলেন আবদুল আজিজ খাঁন নৌকা মার্কা নিয়ে । ন্যাপের প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, সেই নির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়ে/ সারা দেশের সর্বউচ্চ ভোট পেয়ে কুঁড়েঘর মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন । ্তখনও দেখতাম আবদুল আজিজ খাঁন তেজসী বক্তিতা করতেন । তিনি বক্তিতায় রসালো কথা বলতেন, মানুষকে হাসাতেন,
এর পর ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ জেণারেল এরশাদ সামরিক আইন দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজের আদিপাদ্য বিস্তারে ও রাষ্টপতি আসন দখল করেন । তখনই শুরু হয় এরশাদ বিরুধী আন্দোলন । এই আন্দোলন দুইভাগে শুরু হয়, একদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৪ দল আর মুক্তিযুদ্ধের বিরুধী জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিয়ে ৭ দল, আমি ন্যাপের কর্মী হিসাবে আমরা ১৪ দল সর্মার্থিত আওয়ামীলীগের সঙ্গে ছিলাম । তখন রাজপথে লড়াই সংগ্রামে আবদুল আজিজ খাঁনের সাথে মিছিল মিটিং দেখা হত কথা হত ।
১৯৮৬ সালে ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসাবে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ,ও সঙ্গে আজিজ খাঁনও মাঠে ময়দানে জনসভায় বক্তিতা করতেন । এর পর ১৯৮৮ সালে ৪র্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর উপজেলা নির্বাচনে হাঁস মার্কা প্রতীকে আবদুল আজিজ খাঁন প্রার্থী হন, অবশ্য সেই সময়ে উপজেলা নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছিলনা, সেই নির্বাচনে ন্যাপ দেবিদ্বার উপজেলার নেত্রীবৃন্দ আবদুল আজিজ খাঁনকে সমার্থন না করে এখলাছুর রহমানকে বই মার্মাকে সমার্থন করে । ঠিক সেই সময়ে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ এর হাতে লেখা পোষ্টকাডে চিঠি আসে আমাদের নেতা কর্মীদেও কাছে,,,, এতে স্পষ্ট লেখা ছিল যেহেতু দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাচনে আমাদেও কোন প্রার্থী নেই , সেহেতু ১৪ দলের পক্ষের প্রার্থী আওয়ামীলীগকে সমার্থন করিতে হয়, এবং হাঁস মার্কাকে জয়যুক্ত করিতে নেতা কর্মীদেরকে অনুরোধ করেন । আমিও এলাকায় আসবো অচিরে- এমন সংবাদে আমরা কিছু সংখ্যক নেতা কর্মী উপজেলা ন্যাপের নেত্রীবৃন্দ নির্দেশ অমান্য করে মোজাফফর আহমেদ এর নির্দেশে হাঁস মার্কার সকল জনসভায় দেবিদ্বার স্থানীয় নেতাদেও মধ্যে আমি আমার সভাপতি আবুল হাসেম ভাই বক্তিতা করি এই সময়ে আমাদেও সাথে জেলা নেতা হিসাবে ন্যাপ নেতা খলিলুর রহমান ফরিদ ও ন্যাপ নেতা গোলাম ফারুক বর্তমানে কুমিল্লায় আওয়ামীলীগ নেতা হিসাবে পরিচিত চান্দিনার আবদুল জলিল ভুইয়াও ছিলেন ।
সেই সময়ে হাঁস মার্কা শেষ জনসভায় অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ যোগদান করার কথা ছিল । ইনি খাঁন সাহেবকে কথা দিয়েছিলেন আমি অবশ্যই ৫ তারিখে জনসভায় বক্তিতা করবো, সেখানে ষড়যন্ত্র হয়, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদকে ঢাকা থেকে বের হতে দেয় নাই, তাঁর গাড়ী ড্রাইভারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়, যাতে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ দেবিদ্বারের যোগদান করতে না পারে । সেই সময়ে আমি সার্বক্ষনিক আজিজ খাঁনের সাথে গভীর সম্পর্ক হয় । আমি তাকে চাচা বলে ডাকতাম তিনি আমাকে ভাতিজা বলে খুর খুর আদও করতেন, আমি একজন ন্যাপ কর্মী হিসাবে আমাকে যথেষ্ট মুর্যয়ন করতেন । নির্বাচন কালিন সময়ে খরচ পাতি নিতে লজ্জা পেতাম, তিনি জোর কওে পকেটে ডুকিয়ে দিত, বলতো চাচার থেকে ভাতিজা না নিলে আর নিবে কে ? আমি একদিন কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম চাচা কিছু টাকা খরচ করলে আপনি পাস করে যাবেন , তার জবাবে তিনি আমাকে বলেন একটা বাড়ী বিক্রী করে নির্বাচন করে পাস করলেও আমাকে ছেলেরা তখন আবার সেই টাকা তুলে নিতে চাইবে । বদনাম বেশী হয়ে যাবে । দেখা য়াক কি হয় । আশা করি এমনি পাশ করতে পারবো । জনগনের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ছিল ।
১৯৯০ সালে ১৩ই অক্টোবর কুমিল্লা সেনানীবাসে সিএসএইচ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন । কুমিল্লা শহরে বিষ্ঞুপুর বাবার কবরের পাশ্বে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন । তিনি ছিলেন একজন স্বচ্ছ , সৎ, নিষ্টাবান , সত্যকারের ত্যাগী রাজনীতিবিদ ছিলেন, কুমিল্লার রাজনীতিতে তিনি এক দৃষ্টান্ত বা উদাহারন হয়ে থাকবে, বর্তমান এই প্রজন্ম তাঁর আদর্শ নৈতিকতা ধারন করতে পারলে দল ও জাতি উপকৃত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি ।
মোবাইল: ০১৭২৫-৮০০৪১৭