
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
ইলিয়াছ হোসাইন: কুমিল্লা মডার্ণ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রাক নির্বাচনি পরিক্ষা,অর্ধবার্ষিক পরিক্ষা,রেজিষ্ট্রেশন ফি, প্রশংসাপত্র বিতরণ সহ বিভিন্ন অভিযোগে ১২লক্ষ দুই হাজার সাতাশ টাকা আত্মসাৎ’র অভিযোগ তুলেছেন উক্ত বিদ্যালয়ের অভিযোগ কারী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।
স্কুলের চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে উক্ত স্কুলের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বুধবার সকাল ১১.৩০মিনিটে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন পত্র জমা দেন।আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন।আবেদন পত্রে উল্লেখিত মডার্ণ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান ও তার মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত খন্ডকালিন তিন শিক্ষক মোঃআরিফুর রহমান,মোঃআবু তাহের, মোসাঃনাজমা আক্তার গং বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ক্ষেত্র বিশেষে মব সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। তার পাশাপাশি তারা বিদ্যালয়ের অনেক আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন।সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও জেলা প্রশাসককেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছিল।আবেদন পত্রটিতে প্রাক নির্বাচনি পরিক্ষা,অর্ধবার্ষিক পরিক্ষা,রেজিষ্ট্রেশন ফি, প্রশংসাপত্র বিতরণ সহ বিভিন্ন অভিযোগে ১২লক্ষ দুই হাজার সাতাশ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন অভিযোগ কারী শিক্ষকরা।
আবেদন পত্রে মডার্ণ স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মফিজুর রহমান নিজামী,মো.আব্দুল কাদের, মো.মনিরুল ইসলাম নিবেদক হিসেবে সাক্ষর করেন।
মডার্ণ স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক আবু হানিফ বলেন,আমাদের স্কুল ঐতিহ্যবাহী স্কুল,এ স্কুলের অনিয়ম,অসঙ্গতি নিয়ে আমরা অভিযোগ করতে হচ্ছে এটা আসলেই দুঃখজনক।আমরা সব শিক্ষক একত্র হয়েছি কারণ আমাদের স্কুলের ঐতিহ্য যেন কোনভাবে নষ্ট না হয়।শিক্ষকদের দলাদলির মাধ্যমে যাতে এ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়,সস্পষ্ট তদন্তের মাধ্যমে স্কুলের বিষয়ে আনা অভিযোগগুলো যেনো সমাধান করা হয়। সেজন্য আজ আমরা সকল শিক্ষক একত্র হয়েছি।
প্রভাতি শাখার সিনিয়র শিক্ষক মনিরুল ইসলাম হায়দার বলেন,আমাদের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান ১বছর দ্বায়ীত্বে আছেন, তার দ্বায়ীত্ব থাকা অবস্থায় অনেক অনিয়ম দেখেছি।সে জন্য আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষরা একত্র হয়ে আজ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন পত্র জমা দিয়েছি।যেন সুস্পষ্টতদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেন আমাদের মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়।
দিবা শাখার সিনিয়র শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন,৯নভেম্বর আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্কুলের অনিয়ম অর্থ আত্মসাৎ বিষয়ে একটি অভিযোগ করে ছিলাম। কিন্তু সেটার কোন ফলাফল পাইনি বিদায় আজ ২৬নভেম্বর জেলাপ্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন পত্র জমা দিয়েছি।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)মহোদয় পত্রটি গ্রহণ করেছেন।তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি নবাগত জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করবেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন,আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এখানে কিছু অনিয়ম হচ্ছে।সেটা আমরা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখবো।এবং এসব কাজে যদি কোন শিক্ষক জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শিক্ষদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগড়,সুতরাং শিক্ষদের উচিত শিক্ষার মান বজায় রাখা।আমার শিক্ষার মান যাতে কোনভাবেই ব্যাহত না হয়,আমার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতে শিক্ষায় ক্ষতি না হয়,এবং সঠিক শিক্ষায় যেন তারা বড় হয় সেই দিকেই খেয়াল দিতে হবে।