
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লায় অস্ত্রশস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৫ সদস্য আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় অস্ত্রসহ পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূল হোতা নয়নসহ ৫ ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় দেশীয় অস্ত্র ও দুই পিকআপ ভ্যান ও , গরু জব্দ করা হয়। বুধবার কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশ, চান্দিনা থানা, সদর দক্ষিণ থানা, লালমাই থানা ও লাকসাম থানা পুলিশের সমন্বিত টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
২৫ নভেম্বর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, চান্দিনার বরকরই নাথের বাড়ি এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় ২টি পিকআপে করে ১৫–১৬ জন ডাকাত দোল্লাই নবাবপুর, রহিমানগর এলাকায় অবস্থান করছে। সংবাদ পেয়ে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পিকআপের ভেতরে থাকা ৩ জন এবং পিছনে থাকা ১ জনকে আটক করে পুলিশ।
অন্যদিকে লাকসাম রেল ক্রসিং এলাকায় ধাওয়া করে ডাকাত দলের মূলহোতা নয়নকে আটক করতে ডিবির সদস্যরা অভিযান চালায়। কিন্তু নয়ন ডিবির সদস্যদেরকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে লাকসাম, লালমাই ও সদর দক্ষিণ থানার মোবাইল টিমসহ তিন থানার ফিডার রুট ঘিরে ফেলে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধাওয়া করে। পরবর্তীতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফিরিঙ্গিরহাট এলাকা পুলিশ পূণরায় নয়ন ও তার সহযোগীকে ধাওয়া করলে নয়ন পুকুরে ঝাঁপ দিলে পুলিশও পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আটক করে। তবে তার সহযোগী পালিয়ে যায়।
চান্দিনা বরকড়ই গ্ৰামের তাজুল ইসলামের মোঃ রায়হান (২০), তিতাসের দক্ষিণ নারান্দিয়া মোহাম্মদ আলী ছেলে মোঃ নয়ন (৩৪), চান্দিনা বরকড়ই গ্ৰামের মৃত মনির হোসেনের ছেলে মোঃ শাহাদাত হোসেন (২৪), চান্দিনার সুবিদপুর দেওকামতা গ্ৰামের সিরাজ কাজীর ছেলে মোঃ নাছির (২৫) ও চান্দিনার সুরিখোলা গ্ৰামের মন্টু মিয়ার ছেলে মোঃ সজীব রানা (২৮)।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, আটক ডাকাতরা চলতি মাসে লাকসাম ও চান্দিনা এলাকায় গরু ডাকাতিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এছাড়া ডাকাত নয়নের বিরুদ্ধে ১১টি, সজীবের বিরুদ্ধে ৫টি ও রায়হানের বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে দুইটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পিকআপ, একটি টোডো রিভাল বার, একটি বোল্ট কাটার, কাঠের বাটযুক্ত দুই ছুরি, দুইটি লোহার চাপাতি, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি হেক্কো ব্লেড কাটার এবং লাকসাম এলাকায় ডাকাতি হওয়া ৩টি গরু ও ২টি বাছুর। পুলিশের অভিযানে আরও কয়েকটি এলাকায় অনুসন্ধান ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।