মমিনুর রহমান বুলবুল
কুমিল্লায় বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনেরবিরুদ্ধে চার্জশিট
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এদিকে স্বামীকে হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া বুলেট বৈরাগীর স্ত্রী উর্মি হীরা জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা ও চাকরির আশ্বাস পেলেও এখনো কিছুই পাননি তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বুলেট বৈরাগী (৩৫) কুমিল্লার বিবির বাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিসিএস নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম সুশীল বৈরাগী। চাকরির সুবাদে তিনি পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্ত্রী, এক শিশুসন্তান ও মা-বাবা রয়েছেন।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ (৩৪), আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার মৃত হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), একই উপজেলার আমড়াতলী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), আড়াইওরা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মৃত সজল মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২)। তারা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
পুলিশের ভাষ্য, আসামি জনি, জুয়েল ও সুজনের স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে চার্জশিটে তাদের ‘ভাসমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে হত্যা করা হয় বুলেটকে:
বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৪ এপ্রিল রাতে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন। ওই দিন গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ঝাগুরজুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি।
পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে কুমিল্লার ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা-পুলিশ সদর দক্ষিণ উপজেলার মহাসড়কের বাতাবাড়িয়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের কাছে পড়ে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা হাইওয়ে থানায় গিয়ে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন