মমিনুর রহমান বুলবুল
দেবিদ্বারে রাগ করে স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে যাওয়ায় অভিমানে স্বামীর ‘আত্মহত্যা’কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্বামী মাদকাসক্ত হওয়ায় রাগ করে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান স্ত্রী। এরপর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থেকেও কোনো সাড়া না পেয়ে অভিমানে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইউসুফ আলী নামের ওই ব্যক্তি। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে উপজেলার ধামতী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০ টার দিকে দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া (সার্কেল) সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীন ও দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত ইউছুফ আলী কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার রামমন ইউনিয়নের কাপালনগর গ্রামের আয়েত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তাঁদের দুই ছেলে ইউনুছ (৫) ও কাউছার (২) রয়েছে। স্ত্রী পান্না আক্তার চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান ও জাহিদুল ইসলাম বাবু জানায়, নিহত ইউসুফ আলী ধামতী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এলাকায় একটি পরিত্যাক্ত ঘরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। ইউসুফ মাদক সেবন করে প্রায় তার স্ত্রীকে মারধর করতো। এ নিয়ে ঘরে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। ঘটনার প্রায় ১০/১২ দিন আগে ইউসুফ আলীর সঙ্গে রাগারাগি করে তার স্ত্রী পান্না আক্তার সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ি গুনাইঘর গ্রামে চলে যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এই রাগ-ক্ষোভে ইউসুফ আলী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
প্রতিবেশী মো.ওমর ফারুক বলেন, ওই পরিত্যাক্ত ঘরে সচারচর কেউ যায় না। শনিবার সন্ধ্যায় রাস্তা দিয়ে কয়েকজন লোক যাওয়ার সময়ঘর থেকে পচা গন্ধ টের পেয়ে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে ইউসুফের অর্ধগলিত মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে তারা স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে ঝুলন্ত অবস্থায় ইউছুফ আলীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে বাবার বাড়ি থেকে ছুটে আসে স্ত্রী পান্না আক্তার। তিনি আহাজারি করতে করতে গণমাধ্যমকে বলেন, আমার সন্তানদের এখন কি হবে। আমার মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশা করে বাড়িতে এসে প্রায়ই আমাকে মারধর করতেন এবং সংসারের আয় নেশার পেছনে ব্যয় করতেন। স্বামীর নির্যাতনের কারণে প্রায় ১০/১২ দিন আগে আমি দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যাই। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। আজকে একজন ফোন করে বলে স্বামী নাকি ফাসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি এখন এই অবুঝ দুই শিশু ও গর্ভের চার মাসের সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচব? বলে আহাজারি করতে থাকেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ইউছুফ নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং এ নেশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা তদন্তের আগে বলা যাচ্ছে না। মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিন-চার দিন আগে তিনি ওই ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।