নিজস্ত্র প্রতিবেদক: তিতাস
প্রকাশ: রোববার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৩ পিএম
অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার বিরুদ্ধে মেঘনায় ঝাড়ু মিছিল-বিক্ষোভদলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ এনে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল সহকারে তার কুশপুত্তলিকা নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির একাংশ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এদিন বিকাল ৪ টায় মেঘনা বাস স্টেশন থেকে সাবেক আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, প্রফেসর শহিদুল ইসলাম, এ্যাড. কামরুজ্জামান, আতাউর রহমান ভূইয়া, দিলারা শিরিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে উপজেলা সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সভা করেন। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ৩১অক্টোবর রাতে দলীয় গঠ তন্ত্র পরিপন্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকারের স্বাক্ষর না নিয়ে এবং সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সির স্বাক্ষর নকল করে সেলিম ভূইয়া নিজে স্বাক্ষর দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ১৫৩ সদস্য বিশিষ্ট মেঘনা উপজেলা বিএনপির কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে। উক্ত কমিটির বিরুদ্ধে মেঘনা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগীঅঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন প্রকাশিত কমিটি অনুমোদন করা হয়নি। এটি কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার প্রতারণা।
বক্তারা আরও বলেন, সেলিম ভূইয়া কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর মেঘনা ও হোমনা উপজেলা বিএনপিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেছেন। তিনি মেঘনা উপজেলায় বালুবাণিজ্য, চাঁদাবাজি করে মেঘনা উপজেলাবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মিজানুর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া হলেন কুমিল্লা- ১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের ভোটার, এই আসনে আমাদের প্রিয় নেতা দেশবরেণ্য রাজনৈতিক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায়, সেলিম ভূইয়া কুমিল্লা -২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কারণ মেঘনা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ তাকে প্রত্যাখান করেছে, তাই অন্য আসনে মনোনয়ন পেলে ওই এলাকায় গিয়ে লুটপুটে খেতে পারবে। আজ আমরা সেলিম ভূইয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মেঘনা উপজেলার রাজনীতি থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান রাখছি এই দুর্নীতিবাজকে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিবেন। সভা শেষে অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং গনজিতা নিক্ষেপ করে।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন মো.সলিম উল্লাহ,যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন, দিলারা শিরিন, প্রফেসর শহিদুল ইসলাম, আবু ইউসুফ নাঈম,আব্দুল কাদের,আতাউর রহমান ভূইয়া, মিলি আক্তার, এ্যাড.কামরুজ্জামান, সেলিম রেজা,অহিদুজ্জামান অহিদ,কামরুজ্জামান দিপু ও মো.সোলেমান প্রমূখ।
এবিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার ও সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সি বলেন, মেঘনা উপজেলা বিএনপির কমিটির বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের অবহিত করেছি।
বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে ০১৭১১৭৮৩৩৩০ ফোন করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।