মমিনুর রহমান বুলবুল:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে দুই বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে গ্রামের চলাচলের রাস্তা নির্মাণের জেরে মো. রহিম সরকার নামে এক গাড়ি চালককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার সকালে সুলতানপুর ইউনিয়নের বক্রিকান্দি গ্রামের মধ্যনগর বহুমুখী মাদরাসার পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।
পরে স্থানীয়রা রহিমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২৩) দুপুরে আহত রহিম সরকারের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে ৬ জনের উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামী করে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা হলো, শাহাদাত ভূইয়া, আবু সাঈদ, নাজিম ভূইয়া, আলা উদ্দিন ভূইয়া, কাউছার আহম্মেদ ভূইয়া, মমিন ভূইয়া। তারা সবাই বক্রিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত কাউছার আহম্মদ ভূঁইয়া উপজেলার বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুমিন ভূঁইয়া স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত।
হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে আহত রহিম বলেন,
সোমবার সকাল ৬টার দিকে আমি গ্রামে রাস্তায় হাটতে বের হই, বিএনপির ক্যাডার কাউছার আহাম্মদ ভূইয়ার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী মুমিন ভূঁইয়া, শাহাদাত ভূইয়া, আবু সাঈদ ভূইয়া, নাজিম ভূইয়াসহ আর কয়েকজন মোটর সাইকেল দিয়ে আমার গতিরোধ করে, আমাকে টেনে হেচরে মধ্যনগর বহুমুখী মাদ্রাসার পূর্ব পাশে একটি কালভার্টের ওপর নিয়ে যায়। এসময় তাদের হাতে থাকা রাম দা, লোহার রড, হকিস্টিক ও গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আমাকে গুরুতর আহত করে। তারা আমার দুই পা ও দুই হাত ভেঙে দেয়। আমি চিৎকার করলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে তারা আমাকে মৃত ভেবে রাস্তা০য় ফেলে যায়। মামলার বাদি রহিম সরকারের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, বর্তমানে আমার স্বামী মৃত্যুর সাথে লড়ছে। তার পুরো শরীরকে রড, রামদা ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় আমি সোমবার থানায় কাউসার ও মুমিন সহ ৬ জনের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। কাছসার ও মুমিন এর নাম আমি মূল এজহারে দিলেও ওসি বলে তাদের নামে মামলা নেওয়া যাবে না মর্মে আমাকে চাপ প্রয়োগ করে একটি কাগজে সাক্ষর নেয়। পরে দেখি বানানো মনগড়া এজহারে মামলা রজু করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কাউছারকে একাধিকার ফোন করা হলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানা অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, এ ঘটনায় বাদির দায়ের কৃত এজহারে উল্লেখিত সবার নাম মামলার এফআইয়ের দেয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার করতে চেষ্টা চলছে।
তারিখ— ২৬—০৯—২৩