মমিনুর রহমান বুলবুল
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আলীয়াবাদ গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (৪৫) ও ভিংলাবাড়ি গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহ জালাল (৪৫)। শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে রবিবার দুপুরে জেল হাজতে প্রেরণ করে ।
দেবিদ্বার থানা—পুলিশ এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই ভুক্তভোগী উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্রীর মা তার বাবার বাড়ি মুরাদনগরের বাখরাবাদ গ্রামে যায়। এসময় ওই ছাত্রী ও তার বোন বাড়িতে ছিল। ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই ছাত্রীকে প্রতিবেশী হালিমা বেগম তার স্বামী হাবিব ও শাহ জালালের জন্য দুপুরের খাবার দিয়ে জমিতে পাঠায়। হাবিব ও শাহ জালাল ওই স্কুলছাত্রীকে একা পেয়ে প্রতিবেশী (পৌর এলাকার আলিয়াবাদ গ্রামের) বাচ্চু মিয়ার নির্জন বাড়িতে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণ করে এবং ঘটনা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে এসে তার বড় বোনের কাছে ঘটনা বললে সে তার মাকে ফোন করে এ ঘটনায় জানায়। তার মা বাড়িতে এসে মেয়ের মুখে ঘটনা শুনে। এসময় স্থানীয় একটি প্রভাবশীলী চক্র এ ঘটনায় থানা পুলিশ না করতে ভুক্তভোগী ওই পরিবারকে চাপপ্রয়োগ করে। পরে শনিবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা বলেন, আমার স্বামী বাহরাইনে থাকে। ঘটনার দুইদিন আগে আমার অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাবার বাড়িতে যাই। এসময় আমার দুই মেয়ে বাড়িতে ছিল। প্রতিবেশীর অনুরোধে আমার ছোট মেয়ে অভিযুক্তদের জন্য জমিতে খাবার নিয়ে যায়। আমার মেয়েকে একা পেয়ে তারা জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি, আমি ন্যায় বিচার চাই।
দেবিদ্বার থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে ভিংলাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হাবিব ও শাহ জালালকে গ্রেফতার করে রবিবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) পাঠানো হয়েছে।
০১৭২৫-৮০০৪১৭